ছায়াপথগুলো হলো মহাবিশ্বের মহান দ্বীপ সাম্রাজ্য—শত শত কোটি নক্ষত্র, আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূলিমেঘের নার্সারি এবং অতি-দানব ব্ল্যাক হোলের এক সুবিশাল মহাকর্ষীয় সমাবেশ। কোনো বিশৃঙ্খল নক্ষত্রপুঞ্জ নয়; আমাদের মিল্কিওয়ের মতো সর্পিল ছায়াপথগুলো হলো এক অতি-গতিশীল, স্বনিয়ন্ত্রিত মহাজাগতিক স্থাপত্য—যা অন্ধকার পদার্থের অদৃশ্য জালে আশ্রিত, কৌণিক ভরবেগের নিত্যতায় এক অপূর্ব ঘূর্ণায়মান চাকতিতে রূপান্তরিত, এবং মহাকর্ষীয় সিংহাসনে আসীন এক দানবাকৃতির ব্ল্যাক হোলের চারপাশে ভারসাম্য বজায় রেখে আবর্তিত।
আদিম হ্যালো থেকে ঘূর্ণায়মান ডিস্ক: কৌণিক ভরবেগের নিত্যতা
স্ট্যান্ডার্ড $\Lambda\text{CDM}$ মহাজাগতিক মডেলে ছায়াপথগুলো বিচ্ছিন্নভাবে গঠিত হয় না। তারা গড়ে ওঠে কসমিক ওয়েব বা মহাজাগতিক জালের সংযোগস্থলে—বিগ ব্যাংয়ের প্রথম সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বোনা অন্ধকার পদার্থের স্পঞ্জের মতো এক সুবিশাল নেটওয়ার্কে।
আদিম গ্যাস যখন এই ডার্ক ম্যাটার কূপগুলোতে আছড়ে পড়েছিল, তখন পার্শ্ববর্তী ভরগুলোর অসম মহাকর্ষীয় জোয়ারি টর্ক (Tidal Torques) মেঘটিকে একটি সার্বিক ঘূর্ণন বা কৌণিক ভরবেগ ($J$) প্রদান করেছিল। ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো সংঘর্ষহীন হওয়ায় তারা একটি বিশাল গোলীয় বা ত্রি-অক্ষীয় হ্যালো হিসেবে ভেসে থাকে। কিন্তু সাধারণ গ্যাসীয় কণাগুলো একে অপরের সাথে আছড়ে পড়ে উত্তপ্ত হয় এবং তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ নির্গমন করে নিজেদের গতিশক্তি হারিয়ে ফেলে (Dissipative Cooling)।
যেহেতু গ্যাস কণাগুলো ঘূর্ণন অক্ষের সমান্তরালে সংঘর্ষের মাধ্যমে তাপ বিকিরণ করে ভেতরের দিকে সহজে চেপে যেতে পারে, কিন্তু অক্ষের লম্ব বরাবর নিট কৌণিক ভরবেগের নিত্যতা ($J = I\omega = \text{ধ্রুবক}$) রক্ষা করতে বাধ্য—তাই মহাকর্ষীয় পতনের মুখে কেন্দ্রবিমুখী বল (Centrifugal force) অনুভূমিক সংকোচনকে আটকে দেয়। কয়েক কোটি বছরের মধ্যেই একটি অশান্ত গোলীয় গ্যাস মেঘ সংকুচিত হয়ে একটি অতি-পাতলা, ঘূর্ণায়মান ছায়াপথ ডিস্কে (Galactic Disk) রূপান্তরিত হয়।
উইন্ডিং সমস্যা এবং লিন-শু ঘনত্ব তরঙ্গ তত্ত্ব (১৯৬৪)
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মেসিয়ার ৫১ (হুইরলপুল গ্যালাক্সি)-এর মতো মনোহর সর্পিল ছায়াপথের ছবি তোলেন, তখন তারা একটি মৌলিক গাণিতিক ধাঁধার মুখোমুখি হন—যাকে বলা হয় উইন্ডিং সমস্যা (Winding Dilemma)।
ছায়াপথগুলো ডিফারেনশিয়াল ঘূর্ণনে ঘোরে: কেন্দ্রের কাছের নক্ষত্রগুলো বাইরের নক্ষত্রের চেয়ে অনেক দ্রুত কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে। মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ২ কিলোপারসেক দূরত্বের একটি নক্ষত্র মাত্র ৫ কোটি বছরে একবার ঘোরে, যেখানে ৮ কিলোপারসেক দূরত্বে আমাদের সূর্য একবার ঘুরতে সময় নেয় প্রায় ২৩ কোটি বছর! সর্পিল বাহুগুলো যদি একই নক্ষত্র দিয়ে তৈরি নিরেট দড়ির মতো হতো, তবে মাত্র দুই-তিনটি আবর্তনের (৫০ কোটি বছর) মধ্যে কেন্দ্রের চারদিকে জিলিপির মতো পেঁচিয়ে চিরতরে বিলীন হয়ে যেত। অথচ ছায়াপথগুলো শত শত কোটি বছর ধরে তাদের খোলা, রাজকীয় বাহু টিকিয়ে রেখেছে!
ঘনত্ব তরঙ্গের সমাধান (লিন এবং শু, ১৯৬৪)
১৯৬৪ সালে গণিতবিদ চিয়া-চিয়াও লিন এবং ফ্র্যাঙ্ক শু এই ধাঁধার অভ্রান্ত সমাধান দেন: সর্পিল বাহুগুলো কোনো স্থায়ী বস্তুর তৈরি নয়; এগুলো হলো ছায়াপথ ডিস্কের মধ্য দিয়ে ছুটে চলা মহাকর্ষীয় ঘনত্ব তরঙ্গ (Density Waves)—ঠিক যেন মহাশূন্যের হাইওয়ের একটি চলমান ট্রাফিক জ্যাম!
একটি ব্যস্ত সড়কে ধীরগতির ট্রাকের পেছনে যেমন গাড়িগুলো সাময়িকভাবে জমাট বাঁধে, ধীরে চলে এবং ট্রাক পার হয়ে আবার দ্রুত ছুটে যায়—তেমনি নক্ষত্র ও গ্যাস মেঘগুলো সর্পিল বাহুর ভেতরে প্রবেশ করে, সাময়িকভাবে ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং আবার অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়:
- শকওয়েভ সংকোচন: গ্যাস মেঘ যখন এই মহাকর্ষীয় ঘনত্ব তরঙ্গে প্রবেশ করে, তখন তা প্রচণ্ড চাপে সংকুচিত হয়ে ধূলিস্তর তৈরি করে।
- নক্ষত্রের নার্সারি: সংকুচিত গ্যাস ভেঙে হাজার হাজার অতি-উজ্জ্বল, বিশাল ও নীল O এবং B শ্রেণির নক্ষত্রের জন্ম দেয়।
- বাহুগুলো কেন নীল দেখায়: এই দানব নীল নক্ষত্রগুলো সূর্যের চেয়ে লাখ লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল হলেও তারা বাঁচে মাত্র ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি বছর। সর্পিল বাহুর অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই তারা সুপারনোভায় বিস্ফোরিত হয়ে মারা যায়! তাই সর্পিল বাহুগুলো সর্বদা নবীন নীল নক্ষত্র ও গোলাপী আয়নিত হাইড্রোজেন মেঘে জ্বলজ্বল করে, আর আমাদের সূর্যের মতো দীর্ঘায়ু হলুদ-লাল বামন তারকারা ডিস্কের মাঝে নির্বিঘ্নে ছড়িয়ে থাকে।
ঘূর্ণির কেন্দ্রস্থলে দানব: স্যাজিটেরিয়াস এ* এবং অতি-দানব ব্ল্যাক হোলের যৌথ বিবর্তন
প্রায় প্রতিটি বিশালাকার ছায়াপথের ঠিক মহাকর্ষীয় কেন্দ্রবিন্দুতে বাস করে এক মহাজাগতিক দানব: একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Supermassive Black Hole বা SMBH), যা সূর্যের চেয়ে লক্ষ থেকে কোটি গুণ ভারী। আমাদের নিজস্ব মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ধনু রাশিতে ২৬,০০০ আলোকবর্ষের ধূলিমেঘের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে স্যাজিটেরিয়াস এ* (Sagittarius A*)—যার ভর সূর্যের প্রায় ৪৩ লাখ গুণ ($4.3 \times 10^6 M_\odot$), কিন্তু যা বুধ গ্রহের কক্ষপথের চেয়েও ছোট আয়তনে বন্দী!
দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন এই ব্ল্যাক হোলগুলো হয়তো গ্যালাক্সির অবশিষ্টাংশ মাত্র। কিন্তু ২০০০-এর দশকে আবিষ্কৃত হয় বিখ্যাত $M\text{–}\sigma$ সম্পর্ক:
$$M_{\text{BH}} \propto \sigma_*^{4 \text{ থেকে } 5}$$
ছায়াপথের কেন্দ্রীয় বাল্জের নক্ষত্রগুলোর বেগের বিস্তৃতির ($\sigma_*$) সাথে ব্ল্যাক হোলের ভরের ($M_{\text{BH}}$) এমন এক অবিশ্বাস্য সূচকীয় সম্পর্ক রয়েছে যা দশের পাঁচ ঘাত জুড়ে নিখুঁতভাবে সত্য! অথচ ব্ল্যাক হোলের প্রত্যক্ষ মহাকর্ষ কেবল কয়েক আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত, আর বাল্জটি হাজার হাজার আলোকবর্ষ চওড়া। কীভাবে কেন্দ্রের এক ক্ষুদ্র বিন্দু সমগ্র ছায়াপথের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর হলো AGN ফিডব্যাক। আদিম মহাবিশ্বে যখন বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্ল্যাক হোলের মুখে আছড়ে পড়ত, তখন তা এক প্রদীপ্ত কোয়েসারে পরিণত হতো। ব্ল্যাক হোলের অ্যাক্রিশন ডিস্ক থেকে নির্গত হতো হাজার হাজার কিলোমিটার বেগের আপেক্ষিকীয় প্লাজমা জেট এবং বিকিরণ বাতাস। এই মহাজাগতিক ঝড় সমগ্র ছায়াপথ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নক্ষত্র তৈরির ঠান্ডা গ্যাসকে এক কোটি কেলভিন পর্যন্ত উত্তপ্ত করে বাইরে ছুঁড়ে দিত—যা একই সাথে নতুন নক্ষত্রের জন্ম এবং ব্ল্যাক হোলের খাবার দুটোকেই চিরতরে থামিয়ে দিত। গ্যালাক্সি এবং তার কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোল একে অপরকে শাসন করে একসাথে বেড়ে উঠেছে।
ভেরা রুবিনের ঐতিহাসিক বিজয়: অন্ধকার পদার্থের অদৃশ্য কায়া
কেপলারীয় বলবিদ্যার চিরায়ত সূত্রে কেন্দ্রীয় ভরের বাইরে কোনো বস্তুর বেগ দূরত্বের সাথে কমতে বাধ্য ($v \propto r^{-1/2}$)—যেমনটা আমাদের সৌরজগতে নেপচুন বুধের চেয়ে অনেক ধীরগতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ১৯৭০-এর দশকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভেরা রুবিন এবং কেনট ফোর্ড সর্পিল ছায়াপথগুলোর ডিস্ক জুড়ে গ্যাসীয় মেঘের বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করেন।
বাইরের দিকে বেগ কমার বদলে তারা দেখলেন কক্ষীয় বেগ সম্পূর্ণ সমতল ($v(r) \approx \text{ধ্রুবক}$) রয়ে গেছে! আমাদের মিল্কিওয়ের কেন্দ্র থেকে ৬০,০০০ আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রগুলোও প্রতি সেকেন্ডে ২২০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে—যা সমস্ত দৃশ্যমান নক্ষত্র ও গ্যাসের মোট মহাকর্ষীয় বাঁধন শক্তির চেয়ে বহুগুণ বেশি। পদার্থবিজ্ঞানের কোনো নিয়মেই তাদের ধরে রাখা সম্ভব ছিল না; ছায়াপথটির স্পিনিং হুইলের মতো মহাকাশে ছিঁড়ে উড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
ভেরা রুবিনের এই সমতল ঘূর্ণন বক্ররেখাই বিশ্ববাসীকে প্রমাণ করে দেয় যে দৃশ্যমান নক্ষত্রের বাইরে ছায়াপথগুলো এক দানবাকৃতির অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার হ্যালোর গভীরে বাস করে। আমাদের মিল্কিওয়ের সমস্ত দৃশ্যমান তারার ভর যেখানে প্রায় ৬ হাজার কোটি সৌর ভর ($6 \times 10^{10} M_\odot$), সেখানে অন্ধকার পদার্থের হ্যালোটি ৬০ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর মোট ভর ১.১ ট্রিলিয়ন সৌর ভর ($1.1 \times 10^{12} M_\odot$)! আমাদের ছায়াপথের ৮৫%-এরও বেশি ভর সম্পূর্ণ অদৃশ্য।
আমাদের মহাজাগতিক বাড়ির ব্যবচ্ছেদ: মিল্কিওয়ের কাঠামো
আমাদের মিল্কিওয়ে হলো একটি SBbc শ্রেণির বার্ড স্পাইরাল (Barred Spiral) ছায়াপথ, যা প্রায় ১,০০,০০০ আলোকবর্ষ ব্যাস জুড়ে বিস্তৃত এবং যাতে ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে। এটি চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
- ১. কেন্দ্রীয় বার এবং বাল্জ: ২৭,০০০ আলোকবর্ষ দীর্ঘ এক ঘূর্ণায়মান চীনাবাদামের মতো কাঠামো, যার কেন্দ্রে স্যাজিটেরিয়াস এ* এবং প্রাচীন নক্ষত্ররা ঘনভাবে বাস করে।
- ২. পাতলা ডিস্ক (Thin Disk): মাত্র ১,০০০ আলোকবর্ষ (৩০০ পারসেক) পুরু এক অতি-পাতলা চাদর, যার মাঝে সমস্ত সর্পিল বাহু, সক্রিয় গ্যাস মেঘ এবং আমাদের সূর্যের মতো ধাতু-সমৃদ্ধ পপুলেশন ১ নক্ষত্ররা অবস্থিত।
- ৩. পুরু ডিস্ক (Thick Disk): প্রায় ৩,৩০০ আলোকবর্ষ (১ কিলোপারসেক) পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে ছায়াপথের প্রাচীন আদিম নক্ষত্ররা বাস করে।
- ৪. নাক্ষত্রিক ও ডার্ক ম্যাটার হ্যালো: ছায়াপথকে ঘিরে থাকা একটি বিশাল গোলক, যেখানে ১৫০টিরও বেশি প্রাচীন গ্লোবিউলার ক্লাস্টার এবং সুবিশাল অদৃশ্য অন্ধকার পদার্থ পরিব্যাপ্ত।
গ্যালাকটিক হ্যাবিটেবল জোন: মহাশূন্যে জীবনের নিরাপদ আশ্রয়
একটি নক্ষত্রজগতে যেমন তরল পানির অস্তিত্বের জন্য গোল্ডিলক জোন থাকে, তেমনি সমগ্র ছায়াপথেও রয়েছে একটি গ্যালাকটিক হ্যাবিটেবল জোন (Galactic Habitable Zone বা GHZ)—একটি বৃত্তাকার বলয় যেখানে কোটি কোটি বছর ধরে জটিল প্রাণ নিরাপদে বিকশিত হতে পারে:
কেন্দ্রের খুব কাছে গেলে ($r < 4\text{ kpc}$) নক্ষত্র ঘনত্ব এত বেশি যে মহাকর্ষীয় টানে গ্রহেরা তাদের কক্ষপথ হারায়। উপরন্তু সেখানে ঘন ঘন সুপারনোভা বিস্ফোরণ, গামা-রশ্মি বিচ্ছুরণ এবং কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ পৃথিবীর মতো গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে বারবার উড়িয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।
অন্যদিকে ছায়াপথের প্রান্তসীমায় ($r > 10\text{ kpc}$) রাসায়নিক বিবর্তন খুব ধীরগতিতে হয়েছে: সেখানে লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো ভারী মৌল এত কম যে পাথুরে গ্রহ কিংবা গ্রহের সুরক্ষা রক্ষাকারী গলিত লোহার চৌম্বকীয় কোর তৈরি হতে পারে না।
আমাদের সৌরজগৎ ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে ঠিক ৮.২ কিলোপারসেক (প্রায় ২৬,৭০০ আলোকবর্ষ) দূরত্বে ওরাইয়ন-সিগনাস স্পারে বাস করে—ঠিক স্যাজিটেরিয়াস এবং পার্সিয়াস সর্পিল বাহুর মাঝখানের এক পরম শান্ত মরূদ্যানে। এখানে প্রাণঘাতী সুপারনোভা বিস্ফোরণ কোটি বছরে একবারও ঘটে না, এবং সূর্যের নিজস্ব বেগ সর্পিল ঘনত্ব তরঙ্গের গতির সমান হওয়ায় আমাদের সৌরজগৎ হিংস্র স্ট্রোমগ্রেন শকওয়েভের মুখোমুখি না হয়ে বিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল জীবন উপভোগ করতে পেরেছে।
মিল্কিওয়ের কাঠামোগত পরিমাপক সারণী
| অংশ / প্যারামিটার | মাত্রা / বিস্তার | ভর ($M_\odot$) | প্রধান ভৌত বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| মোট ভিরিয়াল ভর | ব্যাসার্ধ $\sim ২০০\text{ kpc}$ | $\sim ১.১ \times ১০^{১২} M_\odot$ | ৮৫%-এর বেশি শীতল অন্ধকার পদার্থের হ্যালো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। |
| মোট নাক্ষত্রিক ভর | ব্যাস $\sim ৩০\text{ kpc}$ ($\sim ১,০০,০০০\text{ আলোকবর্ষ}$) | $\approx ৫.৫ \times ১০^{১০} M_\odot$ | ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্র। |
| পাতলা ডিস্ক | পুরুত্ব $\sim ৩০০\text{ pc}$ | $\approx ৪.৫ \times ১০^{১০} M_\odot$ | সর্পিল বাহু, গ্যাস ভাণ্ডার, সূর্যের মতো পপুলেশন ১ তারকা। |
| পুরু ডিস্ক | পুরুত্ব $\sim ১,০০০\text{ pc}$ | $\approx ৬ \times ১০^৯ M_\odot$ | প্রাচীন স্বল্প-ধাতব তারকা; আদিম গ্যালাকটিক মিলনের ধ্বংসাবশেষ। |
| কেন্দ্রীয় বাল্জ ও বার | দৈর্ঘ্য $\sim ৮\text{ kpc}$ | $\approx ১.৫ \times ১০^{১০} M_\odot$ | প্রাচীন পপুলেশন ২ তারকা, ঘূর্ণায়মান বার। |
| স্যাজিটেরিয়াস এ* (SMBH) | সোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ $\approx ১২.৭\text{ মিলিয়ন কিমি}$ | $৪.৩ \times ১০^৬ M_\odot$ | কেন্দ্রীয় মহাকর্ষীয় সিংহাসন। |
| সূর্যের অবস্থান | $R_0 = ৮.২\text{ kpc}$ ($২৬,৭০০\text{ আলোকবর্ষ}$) | — | গ্যালাকটিক হ্যাবিটেবল জোন; পর্যায়কাল ২৩ কোটি বছর ($২২০\text{ কিমি/সেকেন্ড}$)। |
মঞ্চ প্রস্তুত: একটি সৌরসূতিকাগারের মহাকর্ষীয় পতন
বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৯০০ কোটি বছর পর—আজ থেকে ৪৬০ কোটি বছর পূর্বে—আমাদের মিল্কিওয়ে ছিল এক সম্পূর্ণ পরিণত, রাসায়নিকভাবে সমৃদ্ধ সর্পিল ছায়াপথ। এই ছায়াপথের এক নির্জন শহরতলীতে, ওরাইয়ন সর্পিল বাহুর ভেতরে, ঠান্ডা হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং মহাজাগতিক ধূলিকণায় ভরা একটি বিশালাকার আণবিক মেঘ মহাকাশে নিঃশব্দে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
মহাবিশ্ব ততদিনে প্রস্তুত করে ফেলেছিল মহাশূন্য, কণা, মৌলিক বলসমূহ, পর্যায় সারণীর ভারী উপাদান এবং ছায়াপথের নিরাপদ বন্দর। এবার প্রয়োজন ছিল কেবল একটি স্থানীয় স্ফুলিঙ্গের—একটি প্রতিবেশী মৃত্যুমুখী নক্ষত্রের সুপারনোভা শকওয়েভ—যা এই শান্ত মেঘকে কাঁপিয়ে দিয়ে শুরু করবে মহাকর্ষীয় পতন। মহাবিশ্বের মহাবৃত্তান্তের সপ্তম পর্বে আমরা প্রত্যক্ষ করব আমাদের নিজেদের সৌরজগতের জন্মলগ্নের সেই অলৌকিক ইতিহাস: সৌরসূতিকাগার — প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক, প্ল্যানেটেসিমাল এক্রিশন এবং তরুণ সূর্য।
বৈজ্ঞানিক তথ্যসূত্র ও প্রামাণ্য গ্রন্থপঞ্জি
- Lin, C. C., & Shu, F. H. (1964). “On the Spiral Structure of Disk Galaxies.” The Astrophysical Journal, 140, 646–655. doi:10.1086/147955.
- Rubin, V. C., & Ford, W. K. (1970). “Rotation of the Andromeda Nebula from a Spectroscopic Survey of Emission Regions.” The Astrophysical Journal, 159, 379–403. doi:10.1086/150317.
- Ferrarese, L., & Merritt, D. (2000). “A Fundamental Relation between Supermassive Black Holes and Their Host Galaxies.” The Astrophysical Journal Letters, 539(1), L9–L12. doi:10.1086/312838.
- Gonzalez, G., Brownlee, D., & Ward, P. (2001). “The Galactic Habitable Zone: Galactic Chemical Evolution.” Icarus, 152(1), 185–200. doi:10.1006/icar.2001.6617.
- Bland-Hawthorn, J., & Gerhard, O. (2016). “The Galaxy in Context: Structural, Kinematic, and Integrated Properties.” Annual Review of Astronomy and Astrophysics, 54(1), 529–596. doi:10.1146/annurev-astro-081915-023441.
- Event Horizon Telescope Collaboration (Akiyama, K., et al.) (2022). “First Sagittarius A* Event Horizon Telescope Results. I. The Shadow of the Supermassive Black Hole in the Center of the Milky Way.” The Astrophysical Journal Letters, 930(2), L12. doi:10.3847/2041-8213/ac6674.