অভিযোজিত অনাক্রম্য ব্যবস্থা (Adaptive Immunity) কোষের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ প্রোটিন নজরদারির জন্য মেজর হিস্টোকম্প্যাটিবিলিটি কমপ্লেক্স (MHC) অণুর ওপর নির্ভরশীল। টি-লিম্ফোসাইট সরাসরি কোনো আস্ত প্রোটিন চিনতে পারে না; তারা কেবল MHC অণুর বিশেষ খাঁজে সাজিয়ে রাখা ক্ষুদ্র লিনিয়ার পেপটাইড খণ্ডাংশ শনাক্ত করতে পারে।

১. MHC ক্লাস-I ও II অণুর গাঠনিক বৈসাদৃশ্য

  • MHC ক্লাস-I: একটি দীর্ঘ আলফা শৃঙ্খল এবং একটি ছোট (beta_2)-মাইক্রোগ্লোবুলিন নিয়ে গঠিত। এর খাঁজটির উভয় প্রান্ত বন্ধ থাকে, ফলে এটি কেবল ৮ থেকে ১০টি অ্যামিনো এসিডের ক্ষুদ্র পেপটাইড ধারণ করতে পারে। এটি দেহের প্রায় সমস্ত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষে থাকে এবং সাইটোটক্সিক ( ext{CD8}^+) টি-সেলকে ভেতরের অবস্থা প্রদর্শন করে।
  • MHC ক্লাস-II: দুটি আলফা ও বিটা শৃঙ্খল দিয়ে গঠিত। এর পেপটাইড খাঁজের দুই প্রান্ত খোলা থাকে, ফলে এটি ১৩ থেকে ২৫টি বা তার বেশি অ্যামিনো এসিডের দীর্ঘ পেপটাইড ধারণ করতে পারে। এটি কেবল প্রফেশনাল অ্যান্টিজেন-উপস্থাপনকারী কোষে (ডেনড্রাইটিক সেল, ম্যাক্রোফেজ ও বি-সেল) থাকে এবং ( ext{CD4}^+) হেল্পার টি-সেলের কাছে বহিরাগত অ্যান্টিজেন উপস্থাপন করে।

২. MHC ক্লাস-I পাথওয়ে (কোষের নিজস্ব প্রোটিনের নজরদারি)

কোষের সাইটোপ্লাজমে কোনো ভাইরাস বা টিউমার প্রোটিন তৈরি হলে তা নিম্নোক্ত প্রক্রিয়ায় প্রদর্শিত হয়:

  1. ইমিউনোপ্রোটিওজোম: সাইটোপ্লাজমিক প্রোটিনগুলোকে ইউবিকুইটিন ট্যাগ লাগিয়ে প্রোটিওজোমে খণ্ডবিখণ্ড করা হয়।
  2. TAP পাম্প: এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের (ER) গায়ে থাকা TAP1/TAP2 ট্রান্সপোর্টার ATP শক্তি ব্যবহার করে পেপটাইডগুলোকে ER এর ভেতর পাম্প করে।
  3. পেপটাইড লোডিং কমপ্লেক্স: ক্যালরেটিকুলিন ও ট্যাপাসিন (Tapasin) প্রোটিনের সহায়তায় নতুন তৈরি MHC-I অণুর খাঁজে উপযুক্ত পেপটাইড বসানো হয়। পেপটাইড বসলে এটি গোলগি বডির মাধ্যমে কোষের পৃষ্ঠে চলে যায়।

৩. MHC ক্লাস-II পাথওয়ে (বহিরাগত জীবাণুর নজরদারি)

ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমে যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া বা বহিরাগত প্রোটিন কোষে প্রবেশ করে:

  1. ইনভেরিয়েন্ট চেইন (Ii): ER এ যখন নতুন MHC-II তৈরি হয়, তখন এর পেপটাইড খাঁজটি যাতে ভুল প্রোটিন দ্বারা বন্ধ না হয়, সেজন্য একটি ইনভেরিয়েন্ট চেইন (যার নাম CLIP পেপটাইড) খাঁজটি আটকে রাখে।
  2. এন্ডোজোমাল পরিপাক: লাইসোজোমের অ্যাসিডিক ক্যাথেপসিন এনজাইম বহিরাগত জীবাণুকে কেটে ক্ষুদ্র পেপটাইডে রূপান্তর করে।
  3. HLA-DM অনুঘটকীয় বিনিময়: এন্ডোজোমের ভেতরে HLA-DM নামক প্রোটিনটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে CLIP পেপটাইডকে খাঁজ থেকে বের করে দেয় এবং জীবাণুর উচ্চ-আসক্তির পেপটাইডকে MHC-II এর খাঁজে বসিয়ে দেয়। এরপর এটি কোষের বাইরের পর্দায় ( ext{CD4}^+) টি-সেলের জন্য প্রদর্শিত হয়।

৪. ক্রস-প্রেজেন্টেশন (Cross-Presentation)

বিশেষায়িত ডেনড্রাইটিক কোষগুলো বহিরাগত অ্যান্টিজেন গ্রহণ করার পর তা সাধারণ নিয়ম ভেঙে MHC-I এর মাধ্যমেও সাইটোটক্সিক ( ext{CD8}^+) টি-সেলের কাছে উপস্থাপন করতে পারে। একে ক্রস-প্রেজেন্টেশন বলে, যা যেসব ভাইরাস সরাসরি ডেনড্রাইটিক কোষকে আক্রমণ করে না তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে অপরিহার্য।