মানবদেহে মাত্র বিশ হাজার প্রোটিন-কোডিং জিন থাকা সত্ত্বেও অভিযোজিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা (10^{15}) টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন বহিরাগত অ্যান্টিজেন শনাক্ত করতে পারে। এই বিপুল বৈচিত্র্যের উৎস হলো বিকাশমান লিম্ফোসাইটের সোমাটিক ডিএনএ স্তরে RAG এনজাইম দ্বারা পরিচালিত V(D)J রিকম্বিনেশন এবং থাইমাসের কঠোর শিক্ষাদান প্রক্রিয়া।

১. V(D)J রিকম্বিনেশন ও বৈচিত্র্য সৃষ্টির মেকানিজম

টি-সেল রিসেপ্টরের (TCR) আলফা ও বিটা শৃঙ্খল একাধিক জিন খণ্ডাংশের সমন্বয়ে গঠিত: Variable (V), Diversity (D), এবং Joining (J)।

১২/২৩ নিয়ম ও RAG কমপ্লেক্সের ভূমিকা

প্রতিটি জিন খণ্ডের পাশে নির্দিষ্ট রিকম্বিনেশন সিগন্যাল সিকোয়েন্স (RSS) থাকে যাতে ১২ অথবা ২৩টি বেস পেয়ারের স্পেসার থাকে। একটি ১২-বেস স্পেসার কেবল একটি ২৩-বেস স্পেসারের সাথেই জোড়া বাঁধতে পারে (12/23 Rule)।

  1. RAG1/RAG2 রিকম্বিনেজ: ডিএনএ কেটে একটি হেয়ারপিন লুপ গঠন করে।
  2. আর্টেমিস (Artemis) এনজাইম: হেয়ারপিনটি অসমানভাবে কাটার ফলে ছোট প্যালিন্ড্রোমিক P-নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়।
  3. TdT এনজাইম: কোনো টেমপ্লেট ছাড়াই সম্পূর্ণ এলোমেলোভাবে ১৫-২০টি নতুন N-নিউক্লিওটাইড যোগ করে।
  4. NHEJ এনজাইম: কাটা ডিএনএ প্রান্তগুলোকে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে দেয়।

এই এলোমেলো নিউক্লিওটাইড যোগের ফলে রিসেপ্টরের CDR3 অঞ্চলে তৈরি হয় অসীম আণবিক বৈচিত্র্য।

২. থাইমাসের কঠোর শিক্ষণ ও নির্বাচন (Thymic Selection)

অস্থিমজ্জা থেকে তৈরি হওয়া অপরিণত টি-কোষগুলো থাইমাস গ্রন্থিতে প্রবেশ করে দুটি অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়:

ইতিবাচক নির্বাচন (Positive Selection)

থাইমাসের কর্টেক্সে টি-কোষগুলোকে দেহের নিজস্ব MHC অণুর সাথে যুক্ত হতে হয়। যেসব কোষ মধ্যম শক্তিতে MHC চিনতে পারে, কেবল তারাই বেঁচে থাকার সংকেত পায়। যারা মোটেও চিনতে পারে না, তারা অবহেলায় মারা যায় (প্রায় ৯০% কোষ এখানেই মৃত্যুবরণ করে)।

নেতিবাচক নির্বাচন (Negative Selection) ও AIRE জিন

থাইমাসের মেডুলায় অবস্থিত কোষে AIRE (Autoimmune Regulator) নামক একটি মাস্টার জিন সক্রিয় থাকে। AIRE জিনটির বিশেষত্ব হলো এটি থাইমাসের ভেতরেই দেহের অন্যান্য সমস্ত অঙ্গের প্রোটিন (যেমন ইনসুলিন, থাইরয়েড প্রোটিন, মায়েলিন) কৃত্রিমভাবে তৈরি করে টি-কোষগুলোর সামনে প্রদর্শন করে। যেসব টি-কোষ দেহের নিজস্ব প্রোটিনকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে, তাদের অ্যাপোপটোসিসের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয় (Clonal Deletion)। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় যে রক্তে নির্গত টি-সেল কখনোই নিজ দেহকে আক্রমণ করবে না (Central Tolerance)।