কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম হলো রক্তরসে ভাসমান ৩০টিরও বেশি এনজাইম ও প্রোটিনের একটি জৈবরাসায়নিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া। অ্যান্টিবডি বা জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ামাত্র এটি একটি সংকেত বর্ধক (Biochemical Amplifier) হিসেবে কাজ করে জীবাণুকে চিহ্নিত (অপসোনাইজেশন), শ্বেত রক্তকণিকাকে আকর্ষণ এবং সরাসরি কোষঝিল্লি ফুটো করে জীবাণু ধ্বংস করে।
১. কমপ্লিমেন্ট সক্রিয়করণের তিনটি পথ
কমপ্লিমেন্ট ক্যাসকেড তিনটি স্বতন্ত্র আণবিক পথে শুরু হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি সাধারণ এনজাইম তৈরির মাধ্যমে একীভূত হয়:
১. ক্লাসিক্যাল পথ (অ্যান্টিবডি-নির্ভর)
অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত IgM বা IgG অ্যান্টিবডির Fc অংশের সাথে ষড়ভুজাকৃতি C1 কমপ্লেক্স (( ext{C1qC1r}_2 ext{C1s}_2)) যুক্ত হয়। এর ফলে C1s সক্রিয় হয়ে C4 ও C2 কে কেটে তৈরি করে ক্লাসিক্যাল C3 কনভার্টেজ (( ext{C4b2a}))।
২. লেকটিন পথ (শর্করা-নির্ভর)
ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের পৃষ্ঠে থাকা ম্যানোজ শর্করার সাথে রক্তরসের ম্যানোজ-বাইন্ডিং লেকটিন (MBL) যুক্ত হয়। এটি MASP এনজাইমের মাধ্যমে কোনো অ্যান্টিবডি ছাড়াই সরাসরি C4 ও C2 কে কেটে একই C3 কনভার্টেজ তৈরি করে।
৩. অল্টারনেটিভ পথ (স্বতঃস্ফূর্ত ও ফিডব্যাক পরিবর্ধক)
রক্তরসে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১% C3 প্রোটিন পানির সংস্পর্শে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আর্দ্রবিশ্লেষিত হয় (( ext{C3(H}_2 ext{O)}))। ফ্যাক্টর B ও ফ্যাক্টর D এর সহায়তায় এটি অল্টারনেটিভ C3 কনভার্টেজ ( ext{C3bBb}) গঠন করে। প্রোপারডিন প্রোটিন দ্বারা স্থিতিশীল এই এনজাইমটি সেকেন্ডে হাজার হাজার C3 অণু কেটে একটি তীব্র ইতিবাচক ফিডব্যাক লুপ তৈরি করে।
২. C3b প্রোটিনের থায়োএস্টার বন্ধন
C3 অণুর অভ্যন্তরে একটি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল গোপন থায়োএস্টার বন্ধন (( ext{Cys}^{988}- ext{Gln}^{991})) থাকে। C3 কনভার্টেজ যখন C3a কে কেটে ফেলে, তখন C3b প্রোটিনটি উল্টে গিয়ে এই থায়োএস্টার গ্রুপটিকে বাইরের দিকে ৫ ন্যানোমিটার ছুঁড়ে দেয়।
[
ext{C3b-C}(= ext{O})- ext{S-Cys} + ext{R-OH} longrightarrow ext{C3b-C}(= ext{O})- ext{O-R} + ext{HS-Cys}
]
মাত্র ৬০ মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে যদি এটি জীবাণুর গায়ে থাকা কোনো হাইড্রক্সিল বা অ্যামিনো গ্রুপকে পায়, তবে সমযোজী এস্টার বা অ্যামাইড বন্ধনে জীবাণুর গায়ে চিরতরে গেঁথে যায়। এই প্রক্রিয়াকে অপসোনাইজেশন বলে, যা ফ্যাগোসাইটিক শ্বেত রক্তকণিকাকে জীবাণু গ্রাসে সহায়তা করে।
৩. মেমব্রেন অ্যাটাক কমপ্লেক্স (MAC) গঠন
C5 কনভার্টেজ যখন C5 কে কাটে, তখন মুক্ত C5b একে একে C6, C7 ও C8 প্রোটিনকে যুক্ত করে হোস্ট বা ব্যাকটেরিয়ার মেমব্রেনে গেঁথে যায়। এরপর ১২ থেকে ১৮টি C9 প্রোটিন পলিমারাইজড হয়ে একটি ১০-১১ ন্যানোমিটার চওড়া ফাঁপা রিং বা ন্যানোপোর তৈরি করে:
[
ext{C5b} + ext{C6} + ext{C7} + ext{C8} + (12 ext{–}18) ext{C9} longrightarrow ext{MAC (C5b-9}_n)
]
কোষঝিল্লিতে এই বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ার ফলে জীবাণুর অভ্যন্তরীণ আয়নিক ভারসাম্য ধ্বংস হয় এবং বাইরে থেকে দ্রুত পানি প্রবেশ করে অসমোটিক লাইসিসের মাধ্যমে গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ফেটে ধ্বংস হয়ে যায়।