জীবজগতের প্রতিটি চিন্তা, অনুভূতি এবং ঐচ্ছিক নড়াচড়ার মূলে রয়েছে একটি ন্যানোমিটার-পাতলা লিপিড মেমব্রেনের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়নের প্রবাহ। একটি একক জীবতাত্ত্বিক নিউরন মূলত একটি নিখুঁত তড়িৎরাসায়নিক ব্যাটারি এবং ক্যাপাসিটিভ সার্কিট। এটিপি-চালিত আয়ন পাম্প এবং নির্বাচনী আয়ন চ্যানেলের সাহায্যে নিউরনের মেমব্রেন এক সূক্ষ্ম তাপগতিীয় অ-সাম্যাবস্থা বজায় রাখে, যা প্রায় $-70text{ mV}$-এর একটি বিশ্রামকালীন মেমব্রেন বিভব (Resting Membrane Potential) সঞ্চয় করে—যার ওপর ভিত্তি করে মানব মস্তিষ্কের সকল কম্পিউটেশন পরিচালিত হয়।

১. তড়িৎরাসায়নিক সাম্যাবস্থা ও নার্নস্ট সমীকরণ

নিউরনের মেমব্রেন দুটি তরল দ্রবণকে পৃথক করে রাখে: বহিঃকোষীয় তরল (যেখানে সোডিয়াম $text{Na}^+$ ও ক্লোরাইড $text{Cl}^-$ বেশি) এবং অন্তঃকোষীয় সাইটোসল (যেখানে পটাশিয়াম $text{K}^+$ এবং ঋণাত্মক প্রোটিন অ্যানায়ন $text{A}^-$ বেশি)। কোনো নির্দিষ্ট আয়ন যখন তার ঘনত্বের গ্রেডিয়েন্ট বরাবর ব্যাপিত হয়, তখন বিপরীতমুখী তড়িৎক্ষেত্রের আকর্ষণ তাকে বাধা দেয়।

যখন রাসায়নিক ব্যাপন বল এবং তড়িৎ বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী হয়, তখন তৈরি হয় নার্নস্ট রিভার্সাল বিভব। নার্নস্ট সমীকরণ (Nernst Equation) অনুসারে:

E_{text{ion}} = frac{RT}{zF} ln left( frac{[text{ion}]_o}{[text{ion}]_i} right)

এখানে $R$ হলো সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক, $T$ পরম তাপমাত্রা, $z$ আয়নের যোজনী এবং $F$ ফ্যারাডে ধ্রুবক। স্তন্যপায়ী প্রাণীর দৈহিক তাপমাত্রায় ($37^circtext{C}$):

  • পটাশিয়াম ($text{K}^+$): $E_{text{K}} approx -90text{ mV}$
  • সোডিয়াম ($text{Na}^+$): $E_{text{Na}} approx +60text{ mV}$
  • ক্লোরাইড ($text{Cl}^-$): $E_{text{Cl}} approx -70text{ mV}$

২. গোল্ডম্যান-হজকিন-কাটজ (GHK) সমীকরণ

বাস্তবে মেমব্রেনটি একই সাথে একাধিক আয়নের জন্য ভেদ্য বা পারমিয়েবল। তাই সমগ্র মেমব্রেনের প্রকৃত বিভব কোনো একক নার্নস্ট বিভব দ্বারা নয়, বরং বিভিন্ন আয়নের ভেদ্যতা বা পারমিয়াবিলিটি $P_{text{ion}}$-এর সমন্বিত প্রভাব দ্বারা নির্ধারিত হয়। এটিই হলো বিখ্যাত গোল্ডম্যান-হজকিন-কাটজ (GHK) ভোল্টেজ সমীকরণ:

V_m = frac{RT}{F} ln left( frac{P_{text{K}}[text{K}^+]_o + P_{text{Na}}[text{Na}^+]_o + P_{text{Cl}}[text{Cl}^-]_i}{P_{text{K}}[text{K}^+]_i + P_{text{Na}}[text{Na}^+]_i + P_{text{Cl}}[text{Cl}^-]_o} right)

বিশ্রামকালীন অবস্থায় পটাশিয়াম লিক চ্যানেলের কারণে মেমব্রেনে পটাশিয়ামের ভেদ্যতা সোডিয়ামের তুলনায় অনেক গুণ বেশি থাকে ($P_{text{K}} gg P_{text{Na}}$)। ফলে নিউরনের বিশ্রামকালীন বিভব পটাশিয়ামের ইকুইলিব্রিয়াম বিভবের কাছাকাছি প্রায় $-70text{ mV}$-এ স্থির থাকে।

৩. মেমব্রেনের সমতুল্য বর্তনী (Equivalent Circuit)

ফসফোলিপিড বাইলেয়ার একটি অন্তরক বা ইনসুলেটর যা সমান্তরাল পাত ধারক বা ক্যাপাসিটরের মতো কাজ করে ($C_m approx 1,mutext{F/cm}^2$)। প্রতিটি আয়ন চ্যানেল পরিবর্তনশীল রোধ বা পরিবাহিতা ($g_k$) এবং তাদের ব্যাটারি ($E_k$)-এর সমন্বয়। কার্শফের সূত্রের সাহায্যে মেমব্রেন কারেন্ট প্রকাশ করা হয়:

I_m = C_m frac{dV_m}{dt} + sum_k g_k (V_m – E_k)

৪. সোডিয়াম-পটাশিয়াম এটিপি-এজ পাম্প

আয়নিক লিক কারেন্টের কারণে মেমব্রেনের এই ঘনত্বের পার্থক্য চিরতরে ক্ষয় হয়ে কোষের মৃত্যু হতে পারত। এই অবক্ষয় রুখতে নিউরন তার মোট মেটাবলিক শক্তির প্রায় ৫০% থেকে ৭০% ব্যয় করে $text{Na}^+/text{K}^+$ এটিপি-এজ পাম্প পরিচালনায়। প্রতিটি এটিপি অণু ভেঙে এই পাম্পটি ৩টি সোডিয়াম আয়ন বাইরে পাঠায় এবং ২টি পটাশিয়াম আয়ন ভেতরে প্রবেশ করায়, যা মস্তিষ্কের এই তড়িৎরাসায়নিক ব্যাটারিকে অবিরাম রিচার্জ করে রাখে।