১৯৬০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানীদের জানা দুর্বল নিউক্লিয়ার ক্ষয়গুলোতে (যেমন নিউট্রনের বিটা ক্ষয়: $n to p + e^- + bar{nu}_e$) সর্বদা বৈদ্যুতিক চার্জের পরিবর্তন ঘটত, যা চার্জড কারেন্ট ($W^pm$) দ্বারা বাহিত হতো। কিন্তু ইলেক্ট্রোউইক একীকরণ তত্ত্ব এমন এক নতুন মিথস্ক্রিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করে যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে তখন পর্যন্ত কেউ কখনো দেখেনি: চার্জহীন ভারী ভেক্টর বোসন ($Z^0$) বাহিত উইক নিউট্রাল কারেন্ট (Weak Neutral Current)। ১৯৭৩ সালে সার্নের গারগামেল বাবল চেম্বারে চার্জ পরিবর্তন ছাড়া নিউট্রিনো বিক্ষেপণ ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে সার্নে সরাসরি $W$ ও $Z$ বোসন আবিষ্কারের পথ সুগম করে।

১. দুর্বল কারেন্টের গঠন ও সমীকরণ

ইলেক্ট্রোউইক মিথস্ক্রিয়ায় ফার্মিয়নগুলোর সাথে গেজ বোসনের সংযোগ ঘটে:

[
mathcal{L}_{text{int}} = -frac{g}{sqrt{2}} (J_mu^+ W^{+mu} + J_mu^- W^{-mu}) – frac{g}{costheta_W} J_mu^{text{NC}} Z^mu – e J_mu^{text{EM}} A^mu
]

চার্জড কারেন্ট $J_mu^pm$ কেবলমাত্র বাম-হাতি কণার সাথে $V – A$ (ভেক্টর মাইনাস অ্যাক্সিয়াল-ভেক্টর) আকারে যুক্ত হয়, যার কারণে দুর্বল বল সর্বোচ্চ প্যারিটি লঙ্ঘন (Parity Violation) প্রদর্শন করে (যা ১৯৫৭ সালে ড. চিয়েন-শিউং উ প্রমাণ করেন)।

২. নিউট্রাল কারেন্ট ও কাইরাল কাপলিং

দুর্বল নিউট্রাল কারেন্ট $J_mu^{text{NC}}$ বাম-হাতি ও ডান-হাতি উভয় কণার সাথেই যুক্ত হয়, কিন্তু তাদের মিথস্ক্রিয়া শক্তি ভিন্ন থাকে:

[
J_mu^{text{NC}} = sum_f bar{psi}_f gamma_mu (g_V^f – g_A^f gamma^5) psi_f
]

এখানে ভেক্টর ও অ্যাক্সিয়াল কাপলিং ধ্রুবকগুলো নির্ধারিত হয় দুর্বল আইসোস্পিন $T_3$ ও চার্জ $Q$ দ্বারা:

[
g_V^f = frac{1}{2} T_3^f – Q_f sin^2theta_W, quad g_A^f = frac{1}{2} T_3^f
]

৩. ১৯৭৩ সালে গারগামেল বাবল চেম্বার পরীক্ষা

১৯৭৩ সালে সার্নে ১২,০০০ লিটার ফ্রেয়ন গ্যাসে পূর্ণ গারগামেল বাবল চেম্বারে উচ্চ শক্তির মিউয়ন নিউট্রিনো আঘাত করে প্রথমবারের মতো নিউট্রাল কারেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়:

[
bar{nu}_mu + e^- longrightarrow bar{nu}_mu + e^-
]

একটি নিউট্রিনো কোনো চার্জ বিনিময় না করেই একটি ইলেকট্রনকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়, যা প্রমাণ করে যে চার্জহীন $Z^0$ বোসনের অস্তিত্ব বাস্তব।

৪. ১৯৮৩ সালে সার্নে $W$ ও $Z$ বোসনের সরাসরি আবিষ্কার

কার্লো রুবিয়া সার্নের এসপিএস সুপার প্রোটন সিনক্রোট্রনকে প্রোটন-অ্যান্টিপ্রোটন কোলাইডারে ($sqrt{s} = 540 text{ GeV}$) রূপান্তর করেন। ১৯৮৩ সালে UA1 এবং UA2 ডিটেক্টরে $W$ বোসন ($M_W approx 81 text{ GeV}$) এবং $Z$ বোসন ($M_Z approx 91 text{ GeV}$) সরাসরি শনাক্ত করা হয়। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য কার্লো রুবিয়া এবং সাইমন ভ্যান ডার মীরকে ১৯৮৪ সালে মাত্র এক বছরের মাথায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।